সন্মানীত শিকারী ভাইরা কিছু কিছু বাস্তবতা বড়ই নির্মম কিন্তু আপনি যতক্ষন সেটার সম্মুখীন না হবেন আপনি তা উপলব্ধী করতে পারবেননা। তেমনি এই শিকারের সাথে যারা জড়িত তারাও তেমন বাস্তবতার সাথে পরিচিত। আমি কোন এক সময় যখন নতুন ছিলাম আমার মাঝেও অনেক প্রশ্ন জাগতো কিন্তু সেগুলো সমাধানের কোন রাস্তা পেতাম না ফেসবুকে তখন এত গ্রুপ টপ ছিল না। যারা শিকার করতো তাদের পিছনে গিয়ে বসে থাকতাম দেখে আনন্দ পেতাম কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করার সাহস পেতাম না। অনেক বড় বড় শিকারীদের কাছে যখন কিছু একটা জানতে চাইতাম প্রশ্নের উত্তর পেতাম না। অনেকে টিটকারি ও দিত ভাই ৫ বছর আগে ওস্তাদের পিছনে পিছনে নেট নিয়ে মাছের নেটিং করেন তারপর এই প্রশ্ন কইরেন। এই ধরনের কথা শুনে নিজেকে খুব ছোট মনে হতো তাই কাউকে কোন কিছু আর জিজ্ঞাসা করার সাহস হতো না। যেখানে খেলা হতো দর্শক সারিতে বসে খেলা উপভোগ করতাম। রেসিপি তো দূরের কথা যারা অল্প অল্প শিকার জানে তাদের সাথে নতুন হিসেবে কিছু জানতে চাওয়াও কঠিন ব্যাপার ছিল। এভাবে অনেকদিন পার করলাম সাহায্য করার মত খুবই সিমীত লোক ছিল। এরপর আমার এলাকার এক কাকা নদীতে খালে পুকুরে সবজায়গায় মাছ ধরত আমি ওনার সাথে থাকতাম। ওনি আমাকে যেখানেই যেত নিয়ে যেত আমার কোন ছিপ ছিল না। বিডিন্ন মসলা দিয়ে বাড়িতে চাচির কাছে দিত ওনি গুড়ো করে দিত সেই গুড়ো মসলা মিস্টির গাদ আর মাটি মিক্স করে ওনি ইনস্টেন্ট চার বানাতো।টোপ তখন ডিম রুটিই ছিল সুপার হিট। ২ কাটা আর ৪ কাটাই বেশী চলতো। সেই ১৫ বছর আগে থেকে ওনার সাথে থেকে থেকে মাছ ধরার বেসিক গুলো রপ্ত করি। ছাত্র ছিলাম এত খরচ করারও সামর্থ ছিলনা। কাকা সাথে নিয়ে যেত এতেই আমার কাছে অনেক বড় একটা পাওয়া ছিল। সেই ১৫ বছর আগের আমি যার একটা ছিপও ছিলনা কাকার সেই পুরনো চর্কি ছিপ দিয়ে ধার করে মাছ ধরতাম আজ সময়ের পরিবর্তনে লক্ষ লক্ষ টাকার ফিসিংয়ে খরচ করি দামী ব্রেন্ডের ছিপ আর হুইল আমার ষ্টোর রুমে পড়ে থাকে। কিন্তু সেই কাকা আজও সেই কাকাই রয়ে গেছে। যে লজ্জা আমি ওই আমলের বড় শিকারী নামক মানুষদের কাছে পেয়েছি তার বিপরীতে একজন অতি সাধারন শিকারী থেকে তার থেকেও বেশী পেয়েছি। আজ ওনার বয়স হয়ে গেছে তেমন কোথাও যেতে পারে না বার্ধক্যের কারনে। তারপরও আমি যেখানেই যাই ওনাকে নিজ খরচে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিছুদিন আগে আমার পাশে বসা কাকার একটি ছবি দিলাম নিচে।
এরপর অনেকদিন পর আমি চিন্তা করলাম দেখি ফেসবুকে খুজে এমন কোন পেজ আছে কিনা পেলাম না। বেশকিছুদিন পর আমার ফেসবুকে একটি পেজের ঠিকানা পেলাম নামটা ঠিক মনে পরছে না। এমন একটা কিছু পেয়ে আমি যে কি পরিমান খুশি হলাম মনে হলো এটাই আমার কাছে অনেক বড় জিনিস। এভাবে অনেক গ্রুপ পেলাম বড় বড় মাছ দেখতাম আর আশায় থাকতাম আবার কে পোষ্ট করবে তখন খুব বেশী সদস্য ছিল না একটা পোষ্ট এর জন্য ২ দিন অপেক্ষা করতে হতো বা তারও বেশী। খুব আগ্রহ নিয়ে সবগুলোই পড়তাম মোটামুটি অনেক অজানা প্রশ্নের সমাধান খুব সহজেই পেতে শুরু করলাম যেটা আমি অনেকে বছর পার করারপরও উত্তর পাইনি। আমি মনেকরি আজকের হাসান নামটি যে ২-৪ জন শিকারী চিনে তা এই ফেসবুকের পুরনো গ্রুপ গুলোর অবদানের কারনেই। ইনসপায়ারেশন টা ওনাদের কাছ থেকেই এসেছে। যার কারনেই বেফ নামের একটি বড় গ্রুপের জন্ম হয়েছে এবং নতুন পুরাতন অনেক শিকারীকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে।
উপরের কথাগুলো বলার কারন হলো আমরা আজকাল ফেসবুকে যারা শিকারী রয়েছে তাদেরকে অনেকটা তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করে। আমি মনে করি আজকে এংলিংয়ে যে রেভুলেশন হয়েছে তার অন্যতম কারন গ্রুপ গুলো। ফেসবুকে ভাল শিকারী নেই। ভাল শিকারীরা থাকে আড়ালে ওনারা ফেসবুকে আসেনা। যারাই এখন গ্রুপ গুলোতে অনেক দিন ধরে আসেন বা নতুন আসছেন আপনারা আপনাদের বুকে হাত দিয়ে বলুনতো এই গ্রুপগুলো থেকে আপনি কিছুই পাননি। আর যদি কিছু পেয়ে থাকেন সেই জিনিসগুলো পেতে একজন আড়ালের বড় শিকারী থেকে পেতে আপনার কেমন ঘাম জড়তো। আসলে কষ্ট করে যা অর্জন করা যায় তার মূল্য থাকে অনেক বেশী একই জিনিস সহজেই পেয়ে গেলে তার কোন দাম থাকে না। আজকে গ্রুপ গুলোতে প্রশ্ন জাগলেই পোষ্ট করে দিচ্ছেন ১০ মিনিটে ১০ জনের মতামত পাচ্ছেন যাচাই করে ভালটা গ্রহন করতে পারছেন। আপনাদের এই সুযোগ গুলো যারা তৈরী করে দিয়েছে তাদের সন্মান দিতে না পারেন অসন্মান অন্তত কইরেন না। তাদের শিকারী ভাবেন আর না ভাবেন তারাই আপনাদের মত অনেক নতুন এংলারদের তৈরীতে স্বার্থহীন ভাবে ভূমিকা রাখছে। আজকে যারা নতুন আরও ৫-১০ বছর পর আপনারাই মাষ্টার এংলার হবেন তখন আর বলবেনা কেউ আপনারা নতুন তখন আর দরকার হবেনা কোন গ্রুপের।
আর আড়ালে যারা নিজেদের অনেক বড় শিকারী ভাবেন কিংবা যারা মনে করে আড়ালে শিকারীরাই প্রকৃত শিকারী তাদের উচিৎ গ্রুপ গুলি থেকে লিভ নেওয়া যেহেতু তারা কিছু পাচ্ছে না। আপনাদের প্রতি পরামর্শ যারা ফেসবুকে নেই তাদের পিছনে সময় দিয়ে শিকার আয়ত্ত করা।
আড়ালে থাকা বড় শীকারি ভাইরা শিকারের প্রযুক্তি নিয়ে তো আর পরকালে যেতে পারবেন না দুনিয়াতেই রেখে যেতে হবে। রেখেই যেহেতু যাবেন তা অন্যের মাঝে বিলিয়ে দেন আপনার মৃত্যুর পরও সেটা আপনার কাজে লাগতে পারে মন থেকে দেওয়া মানুষের দোয়া।
ভোগে শান্তি নেই ত্যাগেই শুখ।
লেখক- মাহমুদ হাসান
এডমিন- Bangladesh angling forum (BAF)

Comments
Post a Comment