আমার জিবনে ঘটে যাওয়া গল্প,
আমার নানা বাড়ী
ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার
বারোবাজার গ্রামে,
আমার নানার সাথে আমি অনেক মাছ ধরেছি
২ জন মিলে যখন কোথাও মাছ ধরতে যেতাম,
কখনো নিরাশ হয়ে ফিরিনি,
বড়শি, পলো, ঝাকি জাল,
এগুলা ছিলো আমাদের মাছ ধরার অস্র,
আমাদের এই গ্রুপে ১ জন মেম্বার আছে যিনি আমার নানা কে চিনে,Snow Tusher
আমার নানা ইন্তেকাল হয়েছে ১ বছর,😪😪
সকলে আমার নানার জন্য দোয়া করবেন
আল্লাহ যেনো আমার নানা কে বেহেস্ত নছিব করেন,
মুল ঘটনাঃ
২০১৫ সালের শ্রাবন মাসের শেষের দিকের ঘটনা,
নানা বাড়ি এলাকার ট্রেন রাস্তার ব্রিজ নামক ১ টা জাইগা আছে,
যখন প্রবল বৃষ্টি হয়,
তখন বৃষ্টির ঢল নামে ঐ ব্রিজ দিয়ে
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে
অনেক মাছের ঘের ও পানিতে ভেসে গেছে,
সেই ব্রিজের ২ ধারে অনেক শিকারি ঝাকি জাল দিয়ে মাছ ধরে,
দিনে রাতে সমান তালে মাছ ধরে,
কেউ দিনে
কেউ রাতে,
টাকি, সোল, টেংরা, পুটি,কৈ,
মাঝে মাঝে রুই নলা কাতলা এই জাতিয়ো মাছ হচ্ছে
আমি + নানা মিলে ঠিক করলাম
আজ রাতে আমরা ২ জন মিলে যাবো মাছ ধরতে,
রাতে খওয়া দাওয়া শেষ করলাম,
আর সবকিছু গোছগাছ করতে করতে রাত ১১.৪০ বাজলো,
নানা কে বল্লাম চলো নানা রউনা দেওয়া যাক,
নানা কেমন যানি করলো
আমাকে বল্লো নানা ভাই তুই যা
আমার শরির টা একটু খারাপ লাগছে,
আমি ঘণ্টা খানেক রেষ্ট নিয়ে পানের খিলি বানিয়ে আসতেছি,
আমি পুরা না
আমি তোমাকে ছাড়া যাবনা,
নানা বল্লো আরে বোকা যা
ব্রিজে অনেক মানুষ আছে
কোনো ভয় নেই,
আর যারা মাছ ধরে তাদের ভয় থাকতে নাই,
আমি বল্লাম তা না হয় বুঝলাম যে ব্রিজে মানুষ আছে,
কিন্তু একা একা এতো দূর কিভাবে যাবো?
মিনিমাম ৪০ মিনিটের রাস্তা
পায়ে হেটে যেতে হয় ট্রেন লাইন ধরে,
নানার ১ ধমক যা,
কি আর করা নিরুপায় হয়ে রউনা দিলাম,
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে
বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে
বলে রাখা ভালো
ব্রিজের ২-৩ কিলোমিটার জুড়ে কোনো বাড়ি ঘর নাই,
আল্লাহ আল্লহ করতে করতে ব্রিজের কাছাকাছি পৌছালাম,
দূর থেকে টর্স লাইট মেরে দেখি
ও মা এ কি
কোনো মানুষ নাই,
তাহলে নানা যে বল্লো অনেক মানুষ আছে!!!!
আমি ব্রিজের প্রায় কাছাকাছি
তখন আমি বলতেছি ( আঞ্চলিক ভাষায়)
এ ব্রিজে কিডা মাছ ধরে
কোনো সাড়া নাই,
আমি আবার ও বল্লাম কেউ নেই ব্রিজে?
তাতেও কোনো সাড়া নেই,
কেমন জানি ভয় কাজ করতে লাগলো মনের ভিতর,
অবশেষে ব্রিজে পৌছালাম
ব্রিজের ২ পাশে ২ টা লেন,
নিচে নামার জন্য,
বাম পাশের লেনে টর্স লাইট মারতেই
দেখলাম ১ জন বসে আছে জাল হাতে নিয়ে,
মুখ দেখার কোন উপায় নাই
কারন আমি তার পিছনে,
মোটা পলিথিন দিয়ে রেইনকোর্ট এর মতো করে বানানো,
তার গায়ে জড়ানো,
বৃষ্টির দিনে অনেকে শিকারি এই পলি থেরাপি ইউজ করে,
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে,
বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে
যখন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে তখন এলাকা জুড়ে আলোর ঝলকানিতে সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে,,
রাগান্বিত ভারি গলায় সে আমাকে বল্লো লাইট মেরো না,
আমি সাথে সাথে লাইট অফ করলাম,
সে আরও বল্লো লাইট মারলে লাইটের আলোতে বড়ো মাছ কাছে আসে না,
সে আরও বল্লো যাও ও পাশে গিয়ে মাছ ধরো,
এবার আমি জালের ব্যাগ নিয়ে
ডান পাশের লেনে নামলাম,
আমি হাতে জাল গোছাচ্ছি আর তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছি,
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম
আঞ্চলিক ভাষায়
আপনার বাড়ি কনে?
সে বল্লো বেলাট
আমি বল্লাম কোন বেলাট?( বেলাট নামের ২ টা গ্রাম আছে)
বল্লো মাঠ বেলাট,
মানে গ্রাম টা ব্রিজের ৩ কিলো সামনের ১ টা গ্রাম,
সে আমাকে বল্লো তুমি ডাক্তারের নাত ছেলে না,
আমি বল্লাম হ
তুমি আমার নানাকে চিনো?
সে বল্লো হ চিনবো না কেনো,
তোমার নানা কে আমি কাকা কাকা বলে ডাকি,,,
আমরা ১ সাথে মাছ ধরছি অনেক,
সে আমাকে বল্লো তোমার নানা কই?
আমি বল্লাম নানা আসতাছে
একটু পর
তার শরীর টা তেমন ভালো না,
সে বল্লো ও আচ্ছা
আচ্ছা ঠিক আছে মাছ ধরো,
কিন্তু লাইট মেরো না,
আমি বল্লাম আচ্ছা ঠিক আছে,
মনের ভিতর যে ভয় টা কাজ করছিল
সেটা আস্তে আস্তে কমতে শুরু করছে,
যাক নানার পরিচিত ১ যন মানুষ পাওয়া গেলো,,
জাল হাতে নিয়ে জাল টা গুছিয়ে দাড়ালাম
ফেলার উদ্দেশ্য,
জাল ফেলার নিয়ম হলো যখন অন্য কেউ থাকে
তাহলে ২ জন বা সবাই ১ সাথে জাল ফেলতে হয়,
সেই জন্য আমি তাকে বল্লাম মামু ওঠো খেও দেউ,
সে বল্লো না তুমি একাই মারো
আমি কিছুসময় রেষ্ট নি,
আমি একাই জাল ফেল্লাম
জাল ফেলার পর মনে হলো জালে একটু বড়োসড়ো মাছ আটকাইছে,
জালে বড়ো মাছে নাড়া দিতাছে
মনে হচ্ছে বেশ বড়ো সাইজ,
আমি ধিরে ধিরে জাল গোছাচ্ছি,
আর ঐ মামা ( ঐ লোক ) কে বলসি মামু মনে হচ্চে বড়ো মাছ বাধছে জালে,
সে কোনো কথা বল্লো না,
আমি আবার ও বল্লাম মামু এ পাসে আসো মাছ টা একটু উঠাইয়া দিয়ে যাউ,
এবার সে কথা বল্লো
সে বল্লো আমি তোমার ওপাশে যাবো না,
১ টা কাজ করো তুমি জাল টা টান করে ধরে রাখো
আমি পানিতে নামছি,
সে যে পানিতে নামলো কোনো শব্দ পেলাম না,
আবার দেখলাম আমার জালের সামনে,
দেখলাম ডুব দিলো,
১-২ মিনিট পর পানির নিচ থেকে উঠে বল্লো
কই মামু মাছ তো নাই জালে,
তখন আমি জালে কোনো মাছ অনুভব করতে
পারলাম না,
জাল টা উঠালাম
কিন্তু খালি কোনো মাছ নাই জালে,
মনটা ছোট হয়ে গেলো,
হতাস...
লোকটা আমাকে বল্লো সমস্যা নাই
পরের বার আবার হবে
মন খারাপ কোরো না মামু,,
আমিও হুম বল্লাম,
আর মনে মনে ভাবতেছি সে কি আমার মাছ টা ছুটাই দিলো,
এটা ভেবে তার উপর ভিষণ রাগ হচ্ছিল,
আমিও তার উপর রাগ করে আর কোনো কথা বলসিলাম না,,
রাত ভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো,
ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিলো,
বিদ্যুৎ এর আলোতে তাকে দেখছিলাম
আর রাগে ফুলছিলাম,
১০-১৫ মিনিট পর আবার ও জাল হাতে নিয়ে বসে আছি ফেলার জন্য
এবার কানে কেমন ১ শব্দ এলো,
মনে হচ্ছে ব্রিজের ও ওপার
মানে মামু মনে হয় কিছু খাচ্ছে,
আমি জিগ্যেস করলাম মামু এত মজা করে কি খাও??
মামু বল্লো পান খাই,
মনে কেমন ১ টা খটকা লাগলো
এ কি পান খেলে এতো জরে চাপুত চুপুত শব্দ হয় নাকি,
শব্দ টা এমন যে জোরে কামড় দিয়ে খওয়ার মতো,
২-৩ মিনিট ধরে সে শব্দ কটে খেলো কি যেনো,,,
মনের ভিতর কেমন ১টা ভই কাজ করছে,
টর্স লাইট ও মারতে পারতাছি না
কারন মানা আছে,
আবার মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছি
না ও তো পরিচিতো মানুষ
ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নাই,,,
কিছুখন পর আমি জাল ফেললাম,
আবার ও জালে মাছ বাধছে
কিন্তু আমি তাকে কিছু বলিনাই,
মনে মনে বললাম সালার মামু এর আগের মাছ টা ছুটাইছো এবার আর তোমার হেল্প লাগবে না,
আস্তে আস্তে জাল টা উঠালাম
১ টা গ্লাসকাপ ১ কেজি হবে
১ টা রুই ৭০০ গ্রাম
২ টা টাকি মাছ
আমি খুব খুশি হলাম,
মাছ নেটে রাখছি
ঠিক সে সমায় বল্লো মামু কি মাছ পাইছো?
আমি বল্লাম হুম পাইছি,
সে বল্লো কি মাছ
আমি বল্লাম ২ টা টাকি,
সে বল্লো মিথ্যা কথা কেন বলো মামু,
আমি বল্লাম মিথ্যে বলার কও আছে!!!
তুমি তো ২ টা বড়ো মাছ পাইছো,,
আমি অবাক
তুমি বুঝলা কেমনে?
সে বল্লো তোমার জালের খল বল শব্দ শুনে,
আমি বল্লাম হ মামু ২ টা পাইছি,
সে বল্লো সত্যি কথা বল্লেই হয়,
আমি কি তোমার মাছ খেয়ে ফেলছি নাকি??
আমি চুপ হয়ে আছি,
মিথ্যা কথা বলার জন্য,
আর মনে মনে ভাবতেছি নানা আসে না কেনো😪
(সর্ট কট শেষ করছি
অনেক বড়ো কাহিনি সারা রাত লেখেও শেষ করা যাবে না,)
তার সাথে
সারা রাত ভর টুকি টাকি অনেক কথা হলো,
তার কিছু অদ্ভুত আওয়াজ কানে আসছিলো
আবার দুর থেকে চিকুন গলায় কে যেনো কাকে ডাকতাছিলো,
তবে তেমন ভয় পাওয়ার মতো কোন কিছু হয়নাই,
যখনই একটু ভয় পাচ্ছিলাম
তখন ঐ মামু আমার সাথে কথা বলসিলো,
তখন আবার ভয় টা উধাও হয়ে যাচ্ছিলো,,
রাত তখন ৩.৪৫ - ৩.৫০ হবে,
মামু আমাকে বল্লো তোমার নানা এখনো আসে না কেনো,,
আমার তো বাড়ি যেতে হবে,
আমি বল্লাম মামু সকালে যাও
আমাকে একা রাইখা না গেলে হয় না,
সে আমাকে বল্লো
আরে মামু তোমার জন্য তো এতসময় থাকা,
তা না হলে কখন চলে যেতাম,
কিছু সময় পর দূর থেকে নানার গলার আওয়াজ পেলাম,
ঐ রকি
রকি রে আছিস নাকি,,
সে বল্লো ঐযে তোমার নানা চলে আসছে,
খুশিতে আমিও জোরে জোরে চিল্লাইয়া বললাম এই যে নানা আমি আছি,
নানা কাছে আসার পর জিগ্যেস করলো কিরে কি অবস্থা?
আমি বল্লাম মুটামুটি ভালোই
বেশ কিছু টাকি শিং আর নলা, গ্লাসকাপ, কার্ফু হইছে,
নানা বল্লো তাহলে গো ভালোই,,
তো তুই সারা রাত একা একা কেমনে মাছ ধরলি?
তোর কি ভয় লাগে নাই,
তোর তো দেখি সাহস বাইড়া গেছে,
সাবাস,,
আমি বল্লাম আরে না নানা একা একা না
ঐ যে ওপাশে এক মামু আছে তোমার পরিচিত,,
নাানর হাতে টর্স লাইটা মারলো,
নানা বল্লো কই মানুষ
কার কথা বলছিস?
লাইটের আলোতে আমি হা হয়ে গেলাম,
লোক টা গেলো কই!!!!
আমার হাত পা কাপাকাপি করতেছে,
নানা আমার অবস্থা দেখে আমাক বলছে
কি রে কি হলো কথা বলিস না কেনো,,,?
আমি চুপ,
বিশ্বাস করেন আমি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি,,,
পাথরের মতো দাড়িয়ে আছি,
আর ভাবতেছি কে লোক টা
কোথাই গেলো মানুষ টা,
আদেও কি সে মানুষ না অন্য কিছু,
আর মনে মনে পড়তে লাগলো সেই তার সাথে কাটানো সময় গুলা,,
নানার ও বুঝতে বাকি রইলো না,,
কাহিনি কি হয়েছে আমার সাথে,
নানা সুরা পড়ে আমার শরিরে ফু দিচ্ছে,
আর বলতেছে ভই পাশ না
আরে বোকা আমি চলে আসছি না,
শরিরে ১ টা ঝাকুনি দিলো,
নানাকে জড়িয়ে ধরলাম,
কিছু সময় পর সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেলো,
বৃষ্টির ভাব ও কমে গেছে,
নানা বল্লো বস
আমি গিয়ে দেখে আশি কেমন মাছ পাইছিস..
নানা গিয়ে নেট টা উচু করে দেখে
৪-৫ টা টাকি ছাড়া আর অন্য কনো মাছ নাই নেটে,
আমি এবার লক্ষ করলাম ব্রিজের ওপাশের লেন টার দিকে,
যেখানে ঐ মামু রুপের মানুষ টা ছিলো,
দেখলাম মাছের কিছু আইশটা ও কাটা প্রে আছে
নানা কে দেখালাম,
নানা বল্লো ও কিছু না
মনে হয় শিয়ালে মাছ ধরে ওখানে বশে বশে খাইছে,
আমি বল্লাম না নানা
ঐ মানুষ টা ওখানেই বশে ছিলো,
নানা বল্লো চুপ থাক
চল বাড়ি চল,
আমিও চুপ হয়ে গেলাম,
বাড়ি যেতে যেতে এবার আমি নানা কে সব খুলে বল্লাম
রাতের কাহিনি গুলা,
সে যে বড়ো ১ টা মাছ ছুটাই দিছে সেটাও বল্লাম,
এবার নানা বলা শুরু করলো,
শোন ওটা মানুষ ছিলো না
জ্বিন ছিলো,
ওটা আমার বাপের আমলের জ্বিন
কাউকে ক্ষতি করে না,
আমিও যখন একা একা রাতে মাছ ধরি তখন ও আমার সাথে থাকে,
মাঝে মাঝে ২ ১ টা মাছ দেয় ওকে খাইতে,
আর ও তো তোর সাথে সময় দিছে,
যেনো অন্য কোনো কিছু তোকে ক্ষতি না করতে পারে,
আমার তখন হা হয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না,,,
সমাপ্ত
পরিশেষঃ আমার নানা মারা গেছে দেড় বসর হলো
সবাই আমার নানার জন্য দোয়া করবেন,
আল্লাহ যেনো আমার নানাকে বেহেশত নসিব করেন
আমিন,,,
ধন্যবাদ সবাইকে
কষ্ট করে পড়ার জন্য।।।।।।
লেখক- তৌহিদ রকি
মডারেটর - Bangladesh angling forum (BAF)

Comments
Post a Comment